এক কৌশলী চোরের কবলে

কাল বায়তুল মোকাররম মসজিদে গেলাম মাগরিব পড়তে। পাশে ব্যাগ রেখে শেষ রাকাতে ইমামকে ধরলাম। আমার ব্যাগের পাশে আগে থেকেই আরেকটা ব্যাগ। আমার নামাজ শেষ হবার আগেই আরেক ব্যাগের মালিক (?) একটা ব্যাগ নিয়ে চলে গেলেন। আমি আমারটা নিতে গিয়ে দেখি, পড়ে আছে এক অপরিচিত ব্যাগ।

ভাবলাম, ভদ্রলোক নিশ্চয়ই ভুল করে আমারটা নিয়ে গেছেন। অপেক্ষা করি। ২৫ মিনিট পেরিয়ে গেল। কেউ কেউ ভাবছেন, বুঝে ফেলেছি, কী হয়েছে। না। কাহিনির গভীরতা অনেক বেশি।

মসজিদের খাদেমের সাথে কথা হলো। উনি সহ খুঁজলেন কিছুক্ষণ। আস্তে আস্তে চুরির সন্দেহ-ই সত্য হচ্ছে। এবার ঐ ব্যাগটি খুললাম দুজনে। কিছু প্যাড ও ওষুধ কোম্পানির ওষুধের লিস্ট পাওয়া গেল। কিছু ফোন নাম্বারও পেলাম। অবশেষে জানলাম, ব্যাগের মালিক পলাশ আহম্মেদ। ভিজিটিং কার্ডও পেলাম। ফোন করলাম। ধরলেনও। উনিও নিজের ব্যাগ খুঁজছেন। দেখাও হলো।

উনার কাছে যে ব্যাগ পেলাম, সেটা আমার না। তাহলে? উনার ব্যাগ বদল হয়েছে অজুখানায়। উনার কাছে যে ব্যাগ, সেটার মালিকের সাথেও উনার কথা হয়েছে। সেই লোক আছেন গুলিস্তান মসজিদে। তাকে বায়তুল মোকাররমে ডেকে আনা হলো। অনেক বৃদ্ধ লোক। কষ্ট করে এসেছেন। কিন্তু আমি ততক্ষণে বুঝে ফেলেছি, কী হয়েছে। উনার কাছেও আমার ব্যাগ পাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এবং হলোও তাই। উনার কাছে চতুর্থ একটি ব্যাগ।

তার মানেঃ চোর অন্তত প্রথমে বৃদ্ধ মানুষটির ব্যাগ চুরি করল। সেটায় ভালো কিছু না পেয়ে গুলিস্তান থেকে বায়তুল মোকাররম এসে পলাশ সাহেবের ব্যাগের সাথে বদলে নিল। তাতেও ভালো কিছু না পেয়ে একটু সরে এসে আমার আমার ব্যাগের সাথে পাল্টে নিল।

ওয়াও! ব্যাগটা অনেক সুন্দর। ভেতরে আছে বিখ্যাত লেখকদের অটোগ্রাফ সহ বই। তার চেয়ে বড় কথা, আছে একটি ট্যাবলেট মোবাইল। আজকের মতো যথেষ্ট।

আমি জেনেছি তিনটার কথা। সে আসলে কয়টা পাল্টিয়েছে কে জানে।
আগে মন খারাপ হলেও দ্রুত ভালো হয়ে যেত। এবার হচ্ছে না। ট্যাবলেটটার বিরহ ভুলতে সময় লাগবে। ওটাতেই বেশি পিডিএফ বই পড়তাম।
:(  :(  :(

2 comments:

  1. পিডিএফ পড়ে চোখে চশমা নিতে হইছে।

    ReplyDelete
    Replies
    1. কিছূ নিয়ম মেনে চললে সমস্যা এড়ানো যায়।

      Delete